রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফুলবাজারের দুর্দশা ফেরাতে, রেলের সাহায্য চেয়ে আন্দোলন!
বঙ্গপ্রদেশ নিউজ ডেস্ক : ফুলবাজারের দুর্দশা ফেরাতে কোলাঘাট ফুলবাজার পরিচালন সমিতির পক্ষ থেকে দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের পাঁশকুড়ার এ.ডি.ইন.কে ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি পেশ করা হয়। ডেপুটেশনের প্রতিনিধিদলে ছিলেন,সমিতির মুখ্য উপদেষ্টা নারায়ণ চন্দ্র নায়ক,সভাপতি দেবব্রত কোলে,কার্যকরী সভাপতি অনিল প্রামানিক,যুগ্ম সম্পাদক দিলীপ প্রামাণিক, কোষাধ্যক্ষ ইন্দ্রজিৎ কোলে,সদস্য বিশ্বজিৎ নায়েক প্রমূখ।
নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন,কোলাঘাট ফুলবাজার রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফুলবাজার। দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের কোলাঘাট স্টেশনের ডাউন এক নম্বর প্লাটফর্মের নীচে খাদের এক কোণে মাত্র ১৪৬৯ বর্গ মিটার এলাকায় ফুলবাজারটি বসে। বাজারটিতে দুই মেদিনীপুর জেলা ছাড়াও হাওড়া জেলার ফুলচাষীরা ফুলবিক্রির কারণে আসেন। তিন জেলা থেকে প্রত্যহ চার থেকে পাঁচ হাজার ফুলচাষী-ফুলব্যবসায়ী এই বাজারে আসেন। ছোট্ট জায়গায় ফুলবাজার বসার কারণে রেল স্টেশনে যাতায়াতের রাস্তাতেও সকালবেলা ফুলচাষীরা ফুলের পসরা নিয়ে বসতে বাধ্য হন। রেল দপ্তর প্রতি চাষীর কাছ থেকে প্রত্যহ ১০ টাকা, ফুলব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২৫ টাকা ও দোকানদারদের কাছ থেকে ৪০ টাকা করে ফেরিওয়ালা টিকিট বাবদ অর্থ আদায় করলেও বাজারে নেই তেমন কোন পরিষেবার ব্যবস্থা। বাজারটিতে নেই সমতল মেঝে, নেই মাথার উপর আচ্ছাদন, নেই জলনিকাশীর সুষ্ঠু বন্দোবস্ত প্রভৃতি। বর্ষার সময় বাজারের নিচের দিকের খানিকটা অংশ জলে ডুবে থাকে। প্রত্যহ ভোর তিনটে থেকে সকাল দশটা পর্যন্ত বাজারটি বসে।
বাজারটিতে এ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ফুলব্যবসায়ীরা ফুল কেনার জন্য আসেন শুধু তাই নয়,পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহার/ছত্রিশগড়/উড়িষ্যা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও ফুলব্যবসায়ীরা এই বাজারে নিয়মিত আসেন। সম্প্রতি রূপনারায়ণের উপর কোলাঘাটে তৃতীয় রেল ব্রীজ হওয়ার কারণে ফুলবাজার পার্শ্ববর্তী রেলের ওই খাদের খানিক অংশ মাটি ফেলে ভরানো হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে সমিতির পক্ষ থেকে রেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ারকে অবিলম্বে বাজারটি সরজেমিন পরিদর্শন করে যাহাতে কোলাঘাট ফুলবাজারের মাথার উপরে আচ্ছাদন,সমতল মেঝে, বাজারটি সম্প্রসারণ, পর্যাপ্ত আলো, পানীয় জল,শৌচাগার,সুষ্ঠু জলনিকাশীর বন্দোবস্ত সহ বিভিন্ন পরিষেবামুলক ব্যবস্থা চালু করা যায়,সেই আবেদন জানানো হয়েছে।

No comments