Latest Breaking

হোর্ডিং ফ্লেক্স লাগিয়ে, বাম কাউন্সিলরদের উন্নয়ন কাজ 'হাইজ্যাক' করছে তৃণমূল, অভিযোগ

সোমনাথ মুখার্জী,নিউজ্ বেঙ্গল টুডে, কলকাতা : পৌর পরিষেবা, উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা প্রসঙ্গে এক নাগরিক গণকনভেনশনের সম্প্রতি আয়োজন করেছিল দক্ষিণ শহরতলির ৯৮নং  ওয়ার্ড বামফ্রন্ট নেতাজিনগরে।  এই গণকনভেনশনের আহ্বায়ক ছিলেন স্থানীয় সিপিআইএম  কাউন্সিলর মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী।
উপস্থিত ছিলেন ৯৯নং ওয়ার্ডের আরএসপি কাউন্সিলর দেবাশিস মুখার্জী, যাদবপুরের বিধায়ক ও বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী, জেলা বামফ্রন্ট আহ্বায়ক কল্লোল মজুমদার ও অন্যান্য স্থানীয় নেতৃত্ব। উপস্থিত ছিলেন পার্টি দরদী সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশের ৯৯ ও ১০০নং ওয়ার্ডের বহু মানুষ, এমনকি ৯৬নং ওয়ার্ড থেকেও অনেকে এই সভায় যোগদান করেন। সভাপতিত্ব করেন ৯৮নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন সিপিআইএম কাউন্সিলর অর্চনা ভট্টাচার্য। সভা পরিচালনা করেন সিপিআইএম কলকাতা জেলা কমিটির সদস্য সুব্রত দত্ত।
৯৮নং ওয়ার্ড জুড়ে পৌর পরিষেবা ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে, তাঁর সমস্ত কাজের খতিয়ান লিখিত ভাবে পুস্তিকাকারে পেশ করেন মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী।
গোটা ওয়ার্ড জুড়ে আলোকিত রাস্তা, জঞ্জাল সাফাই ও নিকাশি ব্যাবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন মৃত্যুঞ্জয়বাবু। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ভূতপূর্ব মেয়র শোভন চ্যাটার্জি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে বাধা দিয়েছেন যেটি আদতে ১৯৮০ সালের পুর আইন না মানার সামিল। বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিমও বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। চাঁচাছোলা ভাষায় তিনি ও দেবাশিস মুখার্জী আরো অভিযোগের তির ছুঁড়ে বলেন, তৃণমূল পরিচালিত বর্তমান পুর বোর্ড বামপন্থী কাউন্সিলরদের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছেন এবং তাঁদের কাজকে খাটো করে দেখাচ্ছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ১০নং বোরোর অন্তর্গত ওয়ার্ডগুলির ভিতর চারটি ওয়ার্ড বামপন্থীদের। ফলে বাজেট বরাদ্দে অসহযোগিতা সহ অন্যায় ভাবে রীতিমতো হোর্ডিং ফ্লেক্স লাগিয়ে, বাম কাউন্সিলরদের কাজ পরিকল্পিত ভাবে 'হাইজ্যাক' করছেন বোরো চেয়ারম্যান তপন দাশগুপ্ত। তাঁকে মদত দিচ্ছেন টালিগঞ্জের বিধায়ক তথা মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী। তাঁর আরো সংযোজন, ৯৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হওয়া সত্তেও, ৯৮তে অফিস খুলে মানুষকে ভুল বোঝানো থেকে শুরু করে অবৈধ নির্মাণ সহ নানা বেআইনি কাজে মদত দিচ্ছেন তপনবাবু।

পানীয় জল প্রসঙ্গে মৃত্যুঞ্জয়বাবু বলেন, ১৯৮২ সালে বাম আমলে ১২০ মিলিয়ন গ্যালন জল উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন গার্ডেনরিচের পরিশ্রুত পানীয় জল, পূজালি-মহেশতলা- বজবজ পেয়ে যাচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছেন টালিগঞ্জ-যাদবপুরের মানুষ। লিখিত তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, শাসক দলের ওয়ার্ডগুলিতে গভীর নলকূপগুলি একে একে বন্ধ করে গার্ডেনরিচের পরিশ্রুত পানীয় জলের বেশীরভাগটাই টেনে নিয়ে অসৌজন্য ও নোংরা রাজনীতির খেলায় নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, এই কনভেনশনকে স্বাগত জানিয়ে তাঁর জ্বালাময়ী বক্তব্যে বিঁধলেন তৃণমূল-বিজেপিকে। তিনি দাবী করেন যে বাম আমলেই প্রকৃত উন্নয়ন হয়েছে। এখন পুরসভা-পঞ্চায়েত থেকে পিএসসি-এসএসসি সবকিছু দুর্নীতির আখড়া হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ভ্রষ্টাচারের শিখরে বসে আছেন। কাশ্মীরে ৩৭০ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক এনআরসি প্রসঙ্গে বিজেপিকে তুলোধোনা করে সুজনবাবু বলেন, এগুলি আসলে জণগনের নজর অন্য দিকে ঘুরিয়ে, অর্থনীতির বেহাল অবস্থা ও জীবন-জীবিকার বেআব্রু চেহারাকে আড়াল করার নোংরা রাজনীতি সুজনবাবুর হুঁশিয়ারি, বামপন্থীরা মানুষের পাশে আছেন, এবং আগামী দিনে মানুষের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় আরো বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতে চলেছে বামফ্রন্ট।।

No comments