অবাঙালি সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশই ভরষা অর্জুন সিংয়ের
অমলেন্দু গোস্বামী, ব্যারাকপুর: লোকসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে ব্যারাকপুরে উত্তাপ ততই বাড়ছে। এমনিতেই বৈশাখের তীব্র দাবদাহে জ্বলছে বাংলা, তার ওপর ভোটের উত্তাপ জুড়ে কাঁপছে ব্যারাকপুর। লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট প্রকাশের পর পরই রাজ্যের শাসকদল ৪২টি আসনেই প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করে দেয়। এবং ব্যারাকপুর কেন্দ্রে টিকিট না পেয়েই ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। প্রতিদানে তিনি ব্যারাকপুর আসনে কাঙ্খিত টিকিট পান। এরপরই রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই পাল্টে যায় এই শিল্পাঞ্চলে। রাতারাতি বেশ কয়েকটি তৃণমূল পার্টি অফিসের রঙ বদলে বিজেপির ঝান্ডা লাগিয়ে দেয় অর্জুন অনুগামীরা। অপরদিকে থেমে নেই তৃণমূল কর্মী সমর্থকরাও। এমনিতেই ব্যারাকপুর লোকসভা এলাকায় অবাঙালি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বেশি। ফলে অর্জুন সিং তৃণমূল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে নাম লেখানোয় এখানকার ভোটার স্পষ্টতই দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। সংখ্যালঘু ও কিছু বাঙালি ভোটার এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরেই আস্থা রাখছে কিন্তু অবাঙালি সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ অর্জুন সিংয়ের দিকেই রয়েছে। ফলে লড়াই এখানে সমানে সমানে। এরমধ্যে রামনবমী উপলক্ষে বিশাল শোভাযাত্রা করে নিজের শক্তি জাহির করেছেন ভাটপাড়ার চার বারের বিধায়ক অর্জুন সিং। কাকিনারা বাজার থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য এই মিছিলে হাজার দশেকের ওপর লোক হয়েছিল বলে দাবি বিজেপির। এই মিছিল ঘিরে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছে। তৃণমূল নেতাদের দাবি এই রামনবমীর মিছিল থেকে কিছু মদ্যপ যুবক শাসকদলের ব্যানার ও ফ্লেক্স ছিঁড়ে তছনছ করেছে। তাদের বাধা দিতে গেলে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। ভাটপাড়া পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি অশোক দত্ত জানিয়েছেন, "কাকিনারা বাজার থেকে মিছিল রেল লাইনের পূর্ব পারে এলে রথতলা, মাদরাল প্রভৃতি এলাকায় বেশ কয়েকটি ব্যানার ও ফ্লেক্স ছিঁড়ে দেয় একদল মদ্যপ যুবক। আমরা পুলিশে অভিযোগ করেছি"। পরে দলীয় স্তরে কমিশনের কাছেও অভিযোগ জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। শুধু ভাটপাড়া এলাকা নয়, নৈহাটি, নোয়াপাড়া ও ব্যারাকপুর বিধানসভা এলাকাতেও তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। আহত হয়েছে দুই দলের বেশ কয়েকজন কর্মী সমর্থক। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা টহল দিচ্ছে। তৃণমূল নেতাদের দাবি রামনবমীর মিছিলে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে তান্ডব চালিয়েছে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। ধারালো অস্ত্রের কোপে তৃণমূল কংগ্রেসের একের পর এক ব্যানার তছনছ করেছে তারা। অপরদিকে অর্জুন সিং এই দাবি নস্যাৎ করে জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যেই এখন ফাটল ধরেছে, ওদের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর কাজ এসব। বিজেপি এই ধরণের ঘটনায় জড়িত নয়। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিয়ে হুমকি দিচ্ছেন অর্জুন। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তাদের কর্মী সমর্থকদের ভয় দেখানো হচ্ছে। পুলিশকে সব জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন শাসকদলের স্থানীয় নেতারা।

No comments