আইনমন্ত্রী পদচ্যুত, উদাসিন মুখ্যমন্ত্রী! নির্বাচন বিধি চালু হতেই আটকে গেল হিন্দু ম্যারেজ রেজিষ্টার নিয়োগ !
বঙ্গপ্রদেশ নিউজ ডেস্ক : রাজ্যে 23 টি জেলায় অনেক থানায় হিন্দু ম্যারেজ রেজিষ্টার নেই। প্রায় 300 হিন্দু ম্যারেজ রেজিষ্টার নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। মার্চের শুরুতে গেজেট নোটিফিকেশন হওয়ার কথা ছিল। আইনমন্ত্রী পদ থেকে মলয়কে সরিয়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তিনি দায়িত্ব বোঝার আগেই ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। আটকে গিয়েছে হিন্দু ম্যারেজ রেজিষ্টার নিয়োগ! সমস্যায় পড়েছেন লক্ষ লক্ষ নাগরিক।
হিন্দু ম্যারেজ রেজিষ্টার না থাকার ফলে অনেকেই স্পেশাল ম্যারেজ আইনে রেজিষ্ট্রেশন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন।
সামাজিক বিয়ের পর আবেদন করলে হিন্দু ম্যারেজ আইনে 7 দিন পর রেজিষ্ট্রেশন করা যায়
কিন্তু স্পেশাল ম্যারেজ আইনে 7 দিনের পরিবর্তে 1 মাস অপেক্ষা করার পর রেজিষ্ট্রেশন করা সম্ভব।
পাত্রীর ১৮ বছর বয়স হলে বিয়ের পর হিন্দু ম্যারেজ রেজিষ্টার রেজিষ্ট্রেশন করতে পারেন।
কিন্তু যেখানে হিন্দু ম্যারেজ অফিসার নেই সেখানে স্পেশাল ম্যারেজ আইনে রেজিষ্ট্রেশন করতে পাত্রীর ২১ বছর বয়স হতে হবে।
হিন্দু ম্যারেজ আইনে রেজিষ্ট্রেশন করতে বিয়ের পরের দিন এপ্লাই করা যায়, পাত্র ও পাত্রীর আলাদা ঠিকানা হলে সমস্যা নেই।
কিন্তু স্পেশাল ম্যারেজ আইনে স্বামী স্ত্রীর একই ঠিকানায় অন্তত ১ মাস বসবাস করলে তবেই রেজিষ্ট্রেশন করা যাবে।
পশ্চিমবঙ্গ স্পেশাল ম্যারেজ রুল্স 2010 অনুযায়ী স্পেশাল ম্যারেজ অফিসার 1 বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেই তাঁকে হিন্দু ম্যারেজ রেজিষ্টার পদে নিয়োগ করা যায়।
কিন্তু 2015 সালে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যাদের স্পেশাল ম্যারেজ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছিল, তাদের 10 বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও তাদের এখনও হিন্দু রেজিষ্টার পদে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
শুধু তাই নয়, 2019 সাল থেকে অনলাইনে ম্যারেজ রেজিষ্ট্রেশন শুরু হলেও বাম আমলের ম্যারেজ রুল্স 2010 পরিবর্তন করে নতুন রুল্স এখনও নোটিফিকেশন করা হয়নি !
আইন দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, " মার্চের শুরুতে প্রায় 300 হিন্দু ম্যারেজ রেজিষ্টার নিয়োগ এর জন্য নোটিফিকেশন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আইনমন্ত্রী পদ থেকে সরে যাওয়ার ফলে নিয়োগ আটকে গিয়েছে !"
এই আধিকারিক আরও জানান, "স্পেশাল ও হিন্দু ম্যারেজ রুল্স 2026 নোটিফিকেশন এর আগে অনুমোদনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সেই অনুমতি আসার আগেই ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে।"
গত 15 বছরে রাজ্য সরকার বিভিন্ন দপ্তরের স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা করলেও আইন দপ্তরের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় হাজার খানেক ম্যারেজ অফিসার সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে গিয়েছেন বলে অভিযোগ।
এতদিন এই দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন আসানসোলের বিধায়ক মলয় ঘটক। ভোট ঘোষণার কয়েকদিন আগে এই দপ্তর থেকে মলয়কে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু ম্যারেজ অফিসারদের বকেয়া দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা, ম্যারেজ অফিসারদের হতাশ করেছে।
এক ম্যারেজ অফিসার ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন, "বাম আমলে তৈরি হওয়া "ম্যারেজ রুলস 2010" অনুযায়ী ম্যারেজ অফিসার কোনো বেতন বা সরকারি সুযোগ সুবিধা দাবি করতে পারবেননা । সপ্তাহে অন্তত 5 দিন অফিস খুলে বসতে হবে। রেজিষ্ট্রেশন ফি আদায় করে সরকারের কাছে একটি অংশ জমা দিতে হবে। ম্যারেজ রেজিষ্ট্রেশন পিছু মাত্র 375 টাকা ম্যারেজ অফিসারদের জন্য বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। যেদিন রেজিষ্ট্রেশন হবেনা, সেদিন ম্যারেজ অফিসারের রোজগার শূন্য!"
তিনি আরো বলেন "বর্তমান সরকারের আমলে ম্যারেজ রুলস 2010 এর কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। গত 15 বছরে বরাদ্দ এক টাকাও বাড়েনি। উলটে 2019 সালে অনলাইন চালুর পর ম্যারেজ অফিসারদের ওপর আর্থিক বোঝা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। "
ম্যারেজ রেজিস্ট্রি অফিসের মাসিক ভাড়া, বিদুৎ বিল, মোবাইল বিল, কম্পিউটার , প্রিন্টার, খরচ, এমনকি কোনো কর্মী নিয়োগ করলে সেই খরচ ম্যারেজ অফিরদের নিজেদের পকেট থেকে দিতে সরকার বাধ্য করছে বলে, তিনি অভিযোগ করেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের এক হেভিওয়েট নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, "ম্যারেজ অফিসারদের সমস্যার কথা আইনমন্ত্রী সঠিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনতে পারেননি। দেরিতে হলেও আইনমন্ত্রীর পদ থেকে মলয় ঘটককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে, ভোটের পর ম্যারেজ অফিসারদের দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে মা মাটি মানুষের সরকার।"
বিজেপির এক রাজ্য নেতা কটাক্ষ করে বলেন, "যারা 15 বছর ক্ষমতায় থেকে কিছু করতে পারেননি, তাদের পালটানো দরকার। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তবেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।"

No comments