Latest Breaking

গণপিটুনিতে মর্মান্তিক মৃত্যু ! থানায় থানায় বিক্ষোভ

বঙ্গপ্রদেশ নিউজ ডেস্ক : মিথ্যা সন্দেহে গণপিটুনিতে মর্মান্তিক মৃত্যুর জেরে উদ্বিঘ্ন নাগরিক সমাজ। দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় গণপিটুনি দিনের পর দিন বাড়তে থাকায় পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নিতে তারা আরজি জানিয়েছেন। দিন কয়েক আগে খড়গপুরে কারখানাতে যাওয়ার পথে , চোর সন্দেহে গণপিটুনি, এক ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুর জেরে এই উদ্বেগ আরও বেড়ে গিয়েছে।

কয়েকদিন আগে পাঁশকুড়া ব্লকের ঘোষপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় চোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হন দুই ব্যক্তি। এমনকি আবগারি দপ্তরের এক আধিকারিক সহ কয়েকজন কর্মী চোলাই মদের বিরুদ্ধে তল্লাশি অভিযানে গেলে তারাও ওই ব্যক্তিদের দ্বারা আক্রান্ত হন।

পাঁশকুড়ার ঘোষপুর এলাকায় গণপিটুনির ঘটনা নিয়ে  অবিলম্বে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের দাবীতে এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) দলের পাঁশকুড়া লোকাল কমিটির পক্ষ থেকে পাঁশকুড়া থানায় গতকাল ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি পেশ করা হয়। 

গণপিটুনির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি,পরিবেশ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প,সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার্থে অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে নাগরিক কমিটি গঠন করে গণপিটুনি বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি, রবিবার রাতে বাইক নিয়ে খড়্গপুরে নিজের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সৌম্যদীপ। সে দিন তার ‘নাইট ডিউটি’ ছিল। খড়্গপুর লোকাল থানা এলাকার  আনরকলি গ্রামে রাত 10টা নাগাদ  চোর সন্দেহে এই ইঞ্জিনিয়ারকে কয়েকজন তহলদারি যুবক ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে সৌম্যদীপকে উদ্ধার করে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে।  

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে,  সেই রাতেই পরিবারের লোকজন ওড়িশার ভুবনেশ্বরের একটি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করেন ।স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর আঘাত লেগেছিল সৌম্যদীপের। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ওই হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পূর্ব -পশ্চিম মেদিনিপুর ও ঝাড়গ্রামের বেশ কিছু এলাকায়  রাতে বহিরাগতদের আনাগোনা হচ্ছে,এই গুজবে  গ্রাম পাহারা দিতে শুরু করেন বাসিন্দারা।  গণপিটুনির ঘটনায় অবিলম্বে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ সহ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের দাবীতে পাঁশকুড়া থানায়  ডেপুটেশনের প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংগঠনের পাঁশকুড়া দক্ষিণ লোকাল কমিটির সম্পাদক তপন নায়ক ও সদস্য সমরেশ মাইতি,স্বপন বেরা এবং বিদ্যুৎ সামন্ত,খোকন আদক ও হাসমত আলী প্রমূখ।

 দলের জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন,শুধু পাঁশকুড়া ব্লক নয়,জেলার আরো কয়েকটি ব্লকে সম্প্রতি ওই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দাবিগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

No comments