৫০০ কোটি বরাদ্দ হলেও, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজের গতি নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ
বঙ্গপ্রদেশ নিউজ ডেস্ক: সেচ দপ্তরের সিডিউল অনুযায়ী শিলাবতী ও কংসাবতী নদীর নিম্নাংশ,বিভিন্ন খাল এবং রূপনারায়ণের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অংশটি পূর্ণ সংস্কার সহ মাস্টার প্ল্যানের প্রথম পর্যায়ের কাজ দ্রুততার সঙ্গে রূপায়ণের দাবীতে ঘাটালের এসডিও এবং সেচ দপ্তরের মহকুমা আধিকারিকের নিকট ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি পেশ।
সেচ দপ্তরের সিডিউল অনুযায়ী শিলাবতী ও কংসাবতী নদীর নিম্নাংশ,বিভিন্ন নিকাশী খাল এবং রূপনারায়ণের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অংশটি পূর্ণ সংস্কার সহ মাস্টার প্ল্যানের প্রথম পর্যায়ের কাজ দ্রুততার সঙ্গে রূপায়ণের দাবীতে আজ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে ঘাটালের এসডিও এবং সেচ দপ্তরের মহকুমা আধিকারিকের নিকট ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন,কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক ও দেবাশীষ মাইতি কার্যকরী সভাপতি সত্য সাধন চক্রবর্তী,অফিস সম্পাদক কানাই লাল পাখিরা,সহ সভাপতি বাদল সামন্ত ও রামকৃষ্ণ সামন্ত, সহ সম্পাদক প্রশান্ত মাজী প্রমূখ।
কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ন চন্দ্র নায়ক ও দেবাশীষ মাইতি অভিযোগ করে বলেন,বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ বহু আন্দোলন, আবেদন-নিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে গত জানুয়ারী মাসে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সেই প্রকল্পের উদ্বোধনও করেছেন। শিলাবতী নদী অংশের বিভিন্ন এলাকায় এবং তালিকাভুক্ত খালগুলির বিভিন্ন অংশে কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু সেই কাজ চলছে খুব ঢিমেতালে। এইভাবে চলতে থাকলে আগামী বর্ষায় ফের ঘাটাল মহকুমাবাসীকে বন্যার কবলে পড়তে হবে। সেজন্যে আজ কমিটির পক্ষ থেকে ঘাটালের এসডিও এবং সেচ দপ্তরের মহকুমা আধিকারিকের নিকট ৯ দফা দাবীতে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। দাবীগুলি হল-
১) শিলাবতীর নিম্নাংশে যে ২৩ কিলোমিটার অংশে সংস্কার কাজ চলছে,সেচ দপ্তর কর্তৃক সরকারি জায়গা চিহ্নিতকরণ সহ বর্তমান কাটিং চার্ট অনুসারী যতটা খাল সংস্কার হবে তা মার্কিং করা ।
২) অবিলম্বে নদীর ভেতরে থাকা সমস্ত রকম অবৈধ নির্মাণ ও গাছ কেটে পরিষ্কার করা সহ দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এলাকায় মাইকিং এর বন্দোবস্ত করা।
৩) নদীর চরে সংস্কার করা মাটি রাখার জন্য খানিক অংশ ছাড়া/ছাড়া জায়গা চিহ্নিতকরণ করা।
৪) নদীগর্ভের মাটি দিয়ে দুর্বল নদী বাঁধের অংশগুলিকে শক্তপোক্তকরণ ও ঐ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতি নির্ধারণ করে স্থানীয় মানুষকে অবহিতকরণ করা।
৫ ) সিডিউল অনুযায়ী ঠিকাদার ঠিকমত কাজ করছে কিনা তা দেখভাল করার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা ভিত্তিক তদারকি কমিটি গঠন করা।
৬) নদী ও খালগর্ভে যত্রতত্র মাটি কাটা বন্ধ করা।
৭) উপরোক্ত কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দ্রুত কাজের গতি বাড়িয়ে প্রয়োজনে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে কাজের দায়িত্ব দিয়ে আগামী বর্ষার পূর্বে যাতে বেশিরভাগ অংশের কাজ যাতে শেষ হয় সেজন্যে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৮) শিলাবতী নদীর নিম্নাংশ সংস্কারের পাশাপাশি রূপনারায়ণের ঘাটাল মহকুমার অংশ সহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অংশ ড্রেজিং করা।
৯) চন্দ্রেশ্বর খালকে শিলাবতীর সঙ্গে সংযুক্তিকরন,পাম্প হাউস ও ডোয়ার্ফ ওয়াল নির্মাণ সহ মাস্টার প্লানের প্রথম পর্যায়ের বাকি কাজগুলিকে ধাপে ধাপে হাত দেওয়া প্রভৃতি।
আধিকারিকবৃন্দ বলেন সম্প্রতি মনিটরিং কমিটির মিটিংয়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উনারা প্রতিনিধিদলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।


No comments